আন্তর্জাতিকচাকরির খবরজাতীয়তথ্য ও প্রযুক্তিফলাফলশিক্ষাঙ্গনস্কিল

Save Time – Morning

সকালবেলা আপনারে ৫ বার এলার্ম, চারবার গলা ধাক্কা, পাশের বাসার পিচ্চির আর্তচিৎকার, রাস্তার গাড়ির হর্ন, কোনটাই টেনে তুলতে পারে না। এপাশ ওপাশ করে আরো ৫ মিনিট শুয়ে থাকার আশায়, পঞ্চাশ মিনিট সাবাড় করে ফেলেন, হরহামেশাই। অফিসে গিয়া ডেইলি তিনখান আষাড়ে গল্প পয়দা করলেও বস বাবারে বিশ্বাস করাইতে পারেন না। শীতল গলায় ঝাড়ি শুনতে হয়, অলরেডি দুইদিন লেইট করে আসছেন। মাসে তিন দিনের বেশী দেরী করে আসলে কিন্ত একদিনের সেলারি কাটা যাবে, মনে আছে :p

প্রতিদিন সকালে সময় বাচতে চাইলে আপনি নিচের টিপসগুলো দেখতে পারেন – ::

ঘুমভাঙ্গার শহরে ::

১. প্রথম কাজ হচ্ছে, সকালের দিকে, ঘুম ভাঙ্গলে সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে উঠে যাইতে হবে। গড়িমসি করে, এপাশ – ওপাশ করলে হবে না। আর এলার্ম কখনই বালিশের বা বেডের কাছে রাখবেন না। একদম রুমের অন্য এক কোনায় রাখবেন। যাতে উঠে গিয়ে বন্ধ করতে হয়। এলার্ম খুজতে যাওয়ার পথে অন্য জিনিস রেখে দিবেন। যাতে উষ্ঠা খেয়ে ঘুমের আমেজ কেটে যায়। আসলে, আমরা তিন কাঠি সরেস, এলার্ম বাজা শুরু হইলে, এলার্মের তালে তালে আরে বেশি ঘুমাই। এর জন্য মূল কারণ হচ্ছে রাত জেগে প্রিমিয়ার লীগের খেলা দেখা। সেটা ছাইড়া দিয়া ঠিক সময়ে ঘুমান। দেখবেন এলার্ম লাগবে না। সঠিক সময়েই উঠে যাবেন।

বাথরুম::

২. বাথরুম করা আর দাত মাজা আলাদা আলাদা সময়ে করার দরকার নাই। দুই কাজ আপনি ইজিলি একসাথে করতে পারেন। শুনতে ইয়াক মার্কা শুনালেও, একটা ব্যাপার আছে কিন্তু। টুথ পেস্টের ফেনা বেসিনে গিয়ে ফেলাতে না পারলে কমোডের মধ্যে ফেলায় দেন। কেউ তো দেখতেছে না। একটু পরেই তো ফ্ল্যাশ হয়ে যাচ্ছে।

৩. প্রতিদিন সেইভ করার দর্কার নাই। ৪/৫ দিন পর পর করেন। বেস্ট হচ্ছে দাড়ি রেখে দেন। প্রতিদিন সেইভ করতে যদি ৪ মিনিট সময় লাগে আর আপনি যদি ২২ বছর বয়স থেকে এক দিন পর পর সেইভ করা শুরু করেন, ৬০ বছর পর্যন্ত আপনি সেইভ করতে কত টাইম নষ্ট করছেন। ক্যালকুলেটর চাপেন। অবশ্য, ৬০ বছর বয়সে, মরনের চিন্তা শুরু হলে, দাড়ি আর কাটা পড়ে না। তবে, কারা জানি রিসার্চ করে বের করছে, হাল্কা দাড়ি রাখলে সেক্সি লাগে। আর ধর্মীয় কারণে, ইয়াং বয়সেই দাড়ি রাখলে, আপনি ধর্মও পালন করছেন আর সময়ও বাচাচ্ছেন, আপনাকে সালাম।

৪. আরামসে ধীরে সুস্থে সঙ্গীত সাধনা করতে করতে গোসল করার কি দরকার। কুইক শাওয়ার বা কাক ভেজা করবেন। আর সামগ্রিকভাবে পানি ও সময় বাঁচাতে চাইলে, save water, shower together মেথডও আছে। আর খাচ্চর মার্কা হইলে প্রতিদিন না করে, একদিন পরপর বা সপ্তাহে একদিন গোসল করে বাকি দিনগুলিতে বডি স্প্রে ব্যবহার সামাল দিতে পারেন। তবে, ডেইট ডুইট থাকলে, প্রয়োজনে, প্রতিঘন্টায় গোসল করবেন। বাসায় পানি না থাকলে, মাম পানি কিনে আনবেন।

৫. সকালে বাথরুমে রেডি হইতে হইতে (ব্রাশ, সেইভ, শাওয়ার) দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলার লিস্ট বানায়, প্রিভিউ করে ফেলেন। প্রায়রিটি সেট করেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে, আকাজ-কুকাজ নিয়ে চিন্তা করেন। বাথরুম হচ্ছে চিন্তা ভাবনার শ্রেষ্ঠ জায়গা।আর যদি কোনো কাগজপত্র জিনিসপত্র অফিসে নিয়ে যাওয়ার দরকার হয় সেটা আগের দিন রাত্রেই অফিসের বা স্কুলের ব্যাগে ঢুকায় ফেলেন। তাইলে সকালে উঠে এরে ওরে জিগ্যেস করে টাইম নষ্ট হবে না, তাড়াহুড়ার মাঝে ভুলে যাওয়ার চান্সও থাকবে না।

৬. চুল মিনি-মিনি করে রাখবেন। চুল শুকাইতে বা ভেজা চুলের উপ্রে গামছা ঘষতে টাইম কম লাগবে না। এক্সট্রা বেনিফিট, চিরুনি লাগবে না। জেল লাগবে না। চরম এক্সট্রা বেনিফিট হচ্ছে মাসে মাসে চুল কাটাইতে যাইতে হবে না। ফাও বেনিফিট হচ্ছে, স্কুলের টিচার যদি কানের পিছনের চুল ধরে টান দেয়ার স্বভাব থাকে, তাইলে সুবিধে করে উঠতে পারবে না। একদিন পর পর শ্যাম্পু করার কি দরকার। সপ্তাহে একদিন করেন। ভালো হয় যদি, যখন চুল কাটাবেন তখন করবেন। টাইম বাচবে অনেক ফলফ্রুটও বাচবে। কারণ, কে জানি বলছিলো, “There are more furuits in rich man’s shampoo than poor man’s plate ” মাজারে মান্নত করেন যাতে দ্রুত আবুল হায়াত হয়ে যেতে পারেন। এক্সট্রা সময়ে গিজগিজ করবে।

জামাকাপড় ::

৭. নেভি ব্লু বা ব্ল্যাক কালারের জামাকাপড় কিনবেন। ভুলেও সাদা বা অফহোয়াইট কিনবেন না। কারণ খুবই সিম্পল, নেভি ব্লু বা কালো কাপড় সহজেই ময়লা হয় না বা ময়লা হইলেও বুঝা যায় না। আর হালকা গন্ধ হইলে, ব্যাকআপ প্ল্যান হিসেবে পারফিউম তো আছেই। আপনি যদি, পলোশার্ট (কলার ওয়ালা গেঞ্জির) ভিত্রে আরেকটা টি শার্ট (কলার ছাড়া) ব্যবহার করেন। তাইলে, এইগুলা আলাদা আলাদা করে রাখার কোনো দরকার নাই। পলো শার্টের ভিতরে টি শার্ট আগে থেকেই ঢুকাই রাখেন। এই দুইটা একসাথে ঝুলায় রাখবেন, একসাথে গায়ে দিবেন, এক সাথে ধুইবেন। শীতকালে যদি জ্যাকেটও পড়া লাগে। তাইলে জ্যাকেটসহ তিনটা একসাথে রাখবেন, একসাথে পড়বেন অনেক অনেক টাইম বেচে যাবে। আর, পলোশার্ট আর টি শার্টের জোড়াগুলা, আপনার ক্লোজেটে, হাঙ্গারে ঝুলায় রাখবেন। প্রতিদিন সকালে, বাম পাশ থেকে একজোড়া নিয়ে, দিন শেষে ফিরে এসে, ডানপাশে রাখবেন। তাইলে, একটা চক্রাকারে টিশার্টেরগুচ্ছ গুলা ব্যবহৃত হবে, লন্ড্রি করতে বাধ্য হবার আগ পর্যন্ত। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবতে হয় না, আজকে কি পড়ব। তবে, কয়েকটা স্পেশাল জিন্স আর টি শার্ট আলাদা করে রাখবেন। কারো সাথে লাইন মারার টাইমে ঐগুলা পরে যাবেন।

৮. জিন্স কিনার সময়, ঐসব জিন্স কিনবেন যেগুলাতে কাপড়ের বেল্ট লাগানো আছে। এই বেল্ট কোনোদিন জিন্স থেকে খুলেবেন না। আর নিজের কোমরের চাইতে হাল্কায়ে বড় জিন্স কিনবেন। জাস্ট পরিধান করে, বেল্ট টাইট করে দিবেন। প্যান্টের সাথে বেল্ট লাগানো অবস্থাতেই লন্ড্রি। জিন্স নিচে ফোল্ড করার দর্কার হইলে, সেপ্রতিদিন ফোল্ড – আনফোল্ড করার দর্কার নাই। একবার সেট করবেন, ছয় মাস চলতে থাকবে।

৯. কেডস বা রানিং সু এর ফিতা বেশি টাইট করে লাগাবেন না। এমনভাবে লাগাবেন, যাতে সহজেই পা ভিতরে ঢুকায় ফেলা যায় আবার বের করে ফেলা যায়। কিন্তু ফিতা বাধার কোনো ঝামেলা নাই। প্রতিদিন ফিতা লাগাইতে কি পরিমান টাইম নষ্ট হয় চিন্তা করলেই গা শিউরে উঠে। আর কমপক্ষে ৩০ জোড়া মোজা রাখবেন, যাতে তিনমাস পর লন্ড্রি করতে গেলেও, পরিষ্কার মুজার অভাব না হয়।

অফিসে দে-দৌড়::

১০. অফিসের খুব কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন। ভালো হয়, যদি ওয়াকিং বা সাইক্লিং ডিসটেন্সে থাকতে পারেন। তাইলে গাড়ি বের করা, বাসের পিছনে ছোটা, সিএনজি ওয়ালারে তোষামোধ করা লাগে না। আর আপনার বাসা যেই এলাকায়, সেই এলাকায় যদি কোনো গাড়িওয়ালা কলিগের বাসা থাকে, তাইলে, প্রতিদিন পাচটার সময় তার তবিয়তের খবর নিতে যাবেন। এবং গল্প করতে করতে অফিস থেকে বের হয়ে যাবেন। ব্যস ফ্রি ফ্রি বাসায় ফেরার রাইড হয়ে গেলো। বাসায় নামায় দেবার পর থাঙ্কু দিয়ে, পরেরদিন সকালে কখন বের হবে জেনে নেন। চেষ্টা করবেন কোনো বাসার নীচতলার বা একতলায় থাকতে। তাইলে লিফটে বা সিড়ি বেয়ে উঠতে নামতে প্রচুর সময় বেচে যাবে। আর যদি একান্তই সিড়ি বেয়ে উঠা নামা করা লাগে, তাইলে দুই তিন সিড়ি একসাথে উঠবেন বা নামবেন। একটা একটা করে নামার দর্কার কি? তবে তিন বা চার সিড়ি একসাথে নামলে, সিড়ির মধ্যে পা, সিড়ির প্যারালাল দিবেন (সিড়ি বরারব), তাইলে আপনার শরীরের ভার কন্ট্রোল করা ইজি হবে।

১১. আর যদি বাসে করে যেতেই হয়, তবে, হা করে পাশের সীটের তরুনীর দিকে না তাকিয়ে বা তার ফেইসবুক আইডি বাগানোর চেষ্টা না করে, কম প্রয়োজনীয় ফোন গুলো সেরে ফেলেন। বা বিডি জবসের সাইটে গিয়ে কি কি জবে এপ্লাই করবেন সেটার শর্টলিস্ট করে ফেলেন। বা বসকে বেতন বাড়ানোর কথা কিভাবে বলবেন, সেটা চিন্তা করে, রিহার্স করে ফেলেন। না হইলে গার্লফ্রেন্ডের ক্লাসের হোমওয়ার্কের কাজটা বাসেই সেরে ফেলতে পারেন। সম্পর্ক রাখতে গেলে, একটু আধটু হেল্পতো করতেই হবে। নাকি ?

১২. বাসায় নাস্তা না করে, অফিসে নাস্তা নিয়ে এসে কাজ করতে করতে নাস্তা করেন। তাইলে নাস্তা খাওয়ার টাইমেও টাকা রোজগার হবে। আমিতো মাঝখানে, সময় বাচাইতে গিয়া সকালে নাস্তা খাওয়ায় ছাইড়া দিছিলাম। প্রায় দুই বছর। তারপর বন্ধুরা গ্যাস্টিক আলসার হবে ভয় দেখিয়ে আবার লাইনে আনছে। তাই সাধারনত অফিসের ফ্রি একগ্লাস দুধ, একখান কলা আর মন চাইলে একটু ওটমিল খেয়ে ফেলি।

যা যা শিখলাম::

এখানে সময় বাঁচানোর খুব সিম্পল তিনটা স্ট্রাটেজির কথা বলেছি। নিত্যদিনের কাজ কর্মের উদাহরণ দিয়ে। এই তিনটা স্ট্রাটেজি হচ্ছে – এলিমিনেশন, রিডাকশন, প্যারালালাইজেশন। যেমন, প্রতিদিন জুতার ফিতা আটকানোর কাজটাকে এলিমিনেট করা হইছে। প্যান্টের সাথে বেল্ট রেখে দিয়ে, প্যান্ট পড়ার টাইম রিডিউস করা হইছে আর বাসে যাইতে যাইতে প্রয়োজনীয় ফোনের আলাপগুলো সেরে ফেলাটা হচ্ছে প্যারালালাইজেশন।

এইটাতো শুধু সকালের টাইম বাঁচানোর উপায়। পুরা দিনতো এখনো বাকি 😀

এইবার, ফুটেন। এত লম্বা লেখা পড়ে টাইম নষ্ট করেন। আপ্নার খাইয়া দাইয়া কাজ কম নাই >:(

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker